এক নজরে উত্তর বঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ
“তালোড়া আলতাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়”
ডাকঘর- তালোড়া, উপজেলা- দুপচাঁচিয়া, জেলা- বগুড়া
ইংরেজ শাসনকালে বগুড়া জিলা স্কুল ও সান্তাহার সেন্ট হার্ভে এম,ই স্কুল ভিন্ন ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিলো না। তৎকালে শিক্ষার আলো বঞ্চিত নিরক্ষর ব্যক্তি সাধারণের সন্তান সন্ততিদের শিক্ষার জন্য তালোড়া লাফাপাড়া গ্রামের ক্ষণজন্মা পুরুষ মরহুম গাজু প্রামানিক সাহেব টোলের পন্ডিতগণের সঙ্গে শিক্ষাদান ব্যবস্থার উন্নয়নের গতিধারা আনয়নে পরামর্শ করেন এবং বেসরকারিভাবে টোলের ছাত্রদের নিজে প্রথম শ্রেণি হতে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রদের তালোড়া বন্দরে শ্রেণি পাঠদান কায্যক্রমের সূচনা করেন। এমন ক্লান্তিকালে নানা অপ্রতিকুল চড়াই উতড়াই পেড়িয়ে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এম,ই স্কুল পরবর্তীকালে আপগ্রেড স্কুলে অর্থাৎ তালোড়া হাইস্কুলে উন্নীত করেন। স্কুলে ছাত্র সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় তালোড়া বন্দরে বানিজ্যিক এলাকায় উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য স্থান সংকুলান না হওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাজু প্রামানিক সাহেব তৎকালীন জমিদার নওয়াব আলতাফ আলী সাহেবের শরণাপন্ন হন। নওয়াব আলতাফ আলী সাহেব তার বন্ধু প্রীতম গাজু প্রামানিক সাহেবের শিক্ষা বিস্তারে ঐকান্তিক ইচ্ছা ও আগ্রহে খুশি হয়ে তাঁর জমিদারির অন্তর্গত একটি উন্মুক্ত জায়গা বাছাই করে জমি ক্রয়ের পরামর্শ দান করেন। তাঁর পরামর্শে তালোড়া বন্দরের বাণিজ্যিক এলাকার বাহিরে তালোড়া দুপচাঁচিয়া ডিবি রোড সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ছয় একর জায়গার উপর দশ কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা স্কুল বিল্ডিং নির্মাণ কার্য সষ্পন্ন করেন ও বিদ্যালয়ের যাবতীয় আসবাব পত্র দানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
মরহুম গাজু প্রামানিক সাহেব ১৯১৮ সাল থেকে 1940 পর্যন্ত বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন পরবর্তীকালে মরহুম গাজু প্রামানিকের জ্যেষ্ঠ পুত্র মরহুম তরিকুল্লাহ প্রামানিক সাহেব সহ মরহুম রিয়াজ উদ্দীন তালুকদার সাহেব, মরহুম মোবারক প্রামানিক সাহেব, মরহুম ফরিদ উদ্দিন মন্ডল, মুসলিম খাঁ, নূরুল হুদা আকন্দ, ইয়াকুব আলী খন্দকার ও অন্যান্য গুনগ্রাহী বিদ্যৎসাহী ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদে নিয়োজিত থেকে সুষ্ঠভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা কার্যে সহায়তা দান করেছেন।
মরহুম গাজু প্রামানিক সাহেব বিদ্যালয়ের Affiliation প্রাপ্তির জন্য তৎকালীন কলকাতা সিটি মেয়র নওয়াব আলতাফ আলী সাহেবের শরণাপন্ন হন। যেহেতু নওয়াব আলতাফ আলী সাহেব স্কুলটি প্রতিষ্ঠায় সার্বিক সহযোগিতা করেন এবং তাঁর জমিদারের উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় স্কুলটির নামকরণ করা হয় তালোড়া আলতাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়। অতঃপর 1920 সালের ৭ই জুলাই সিটি মেয়র নওয়াব আলতাফ আলী সাহেব বিদ্যালয়ের Affiliation গ্রহণ করে Affiliation পত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবরে প্রেরণ করেন।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এখানে, বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও কারিগরি বিভাগ চালূ আছে। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রত্যেকটিতে দুটি করে শাখা চালু আছে। এছাড়াও কম্পিউটার ক্লাস ও প্রশিক্ষনের জন্য শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ও ILC Computer ল্যাব নামক পৃথক দুটি ল্যাব চালু রয়েছে। নতুন নতুন বহুতল বিশিষ্ঠ একাডেমিক ভবন ও অফিস ভবন নির্মান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক গঠনের জন্য সুবিশাল মাঠ রয়েছে। মেধাবী, সুদক্ষ ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক এবং শিক্ষানুরাগী ম্যানেজিং কমিটি দ্বারা বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন একাডেমিক ফলাফল ও সহ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ্র গ্রহণ ও সাফল্যের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকায় অত্র প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করেছে। তথ্য ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী কর্তৃক Smart School হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। বর্তামান সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থাকে অত্যাধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর করার লক্ষ্যে প্রধান শিক্ষক ও কম্পিউটার শিক্ষক বিদেশ হতে সাফল্যের সাথে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
প্রতিষ্ঠানের উত্তোর উত্তোর উন্নয়ন ও সাফল্যে সকলের সহযোগীতা কামনা করি।
শুভেচ্ছান্তে:
মোঃ সামছুল ইসলাম
প্রধান শিক্ষক
তালোড়া আলতাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়
